Tuesday, May 16, 2017

মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সম্রাট জাহাঙ্গীরের বায়াত গ্রহন

No comments:

মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সম্রাট জাহাঙ্গীরের বায়াত গ্রহন


আকবরের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর সিংহাসন লাভ করেন। জীবনের প্রথমাবস্থায় তার চরিত্র, চেহারায়, পোশাক-পরিচ্ছেদ পুরোপুরি ইসলাম বিরোধী ছিল। তার শাসনামলে একবার মুজাদ্দিদ আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উ কে কারাগারে বন্দী করেছিলেন।
সে সময় আশফজাহ নামক এক ব্যক্তির পরামর্শ  দিলেন, বাদশাহী কর্মচারী, উজীর-নাজীর যেভাবে মুজাদ্দিদ সাহেবের শিষ্য হতে শুরু করেছেন তাতে একদিন রাজ্যে বিপ্লব আসতে পারে, তাই তারঁ দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।এরপর মুজাদ্দিদ  আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে রাজ দরবারে আসতে সংবাদ পাঠালেন। তিনি জানতেন জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রত্যেককে সেজদা বা প্রণিপাত এবং সম্মুখে নত হয়ে দুহাত কপালে ঠেকিয়ে কুর্নিশ করতে হত।
জেনে শুনেই মুজাদ্দিদ আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ঘৃণাভরে মাথা উচুঁ করে গিয়ে দাড়াঁলেন।জাহাঙ্গীর জানতে চাইলো ,তিনি কেন  দরবারের আইন অনুসারে  সেজদা বা কুর্নিশ করলেন না? অন্ততঃ আসসালামু আলাইকুম তো বলতে পারতেন?
হযরত আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি  বললেন, আমি জাহাঙ্গীরের দরবানে ভৃত্য নই, আমি মহান আল্লাহপাক উনার দরবারে ভৃত্য।আর তোমাকে সালাম দেই নাই এই জন্য যে তুমি অহঙ্কারী, হয়তো সালামের উত্তর দিবে না। তখন আমার সালাম দেওয়ার অর্থ হবে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি সুন্নতকে পদদলিত করানো।
জাহাঙ্গীর রেগে  উনাকে বন্দী করে গোয়ালিয়র দুর্গের কারাগারে পাঠায়।এর  সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে লোকজন আরও জাহাঙ্গীরের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে উঠলো।  ‍মুহব্বত খান নামে একজন রাজকর্মী, যিনি মুজাদ্দিদ সাহেবের মুরীদ ছিলেন।।তিনি ক্রোধে আগুন হয়ে বিদ্রোহ করলেন ।জাহাঙ্গীরকে বন্দী করলেন।এদিকে মুজাদ্দিদ সাহেব মুহব্বত খানকে জাহাঙ্গীরের সাথে ভাল ব্যবহার করতে জানালেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বললেন। মুহব্বত খান তাই করলেন।
জাহাঙ্গীর আবার মুজাদ্দিদ সাহেবেকে সম্মানে দরবারে আমন্ত্রণ জানালেন। কিন্তু মুজাদ্দিদ সাহেব কতকগুলো শর্ত দিলেন, শর্ত পালন করলে সাক্ষ্যাৎ করবেন নচেৎ কখনো দেখা হবে না।
শর্তগুলো
*দরবার হতে ইসলাম বিরোধী সেজদা ও কুর্নিশ প্রথার উচ্ছেদ করতে হবে।
*ধ্বংস করে দেওয়া মসজিদগুলো প্রননির্মান করতে হবে।
*যুদ্ধ করের পুণপ্রবর্তন করতে হবে।
*জাহাঙ্গীরকে নিওজ েইসলাম ধর্ অনুযায়ী চলতে হবে এবং রাজ্যও ইসলামের আইনমত চলবে।
*বিচার আগের মতই কাজী বা মুফতি মৌলবীরা করবে।
জাহাঙ্গীর সমস্ত শর্ত মেনে নিলেন, নিজে মুজাদ্দিদ সাহেবের মুরীদ হলেন এবং মদ্যপান ত্যাগ করলেন।পাচঁওয়াক্ত নামায, কুরআন শরীফ পাঠ ইত্যাদি উপসনা শুরু করলেন। অর্থ্যাৎ  মুজাদ্দিদ  হযরত আলাফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংস্পর্শে  ইসলামেরি আলোকে নব শিশুর মত নির্মল জীবন আরম্ভ করলেন।
সুবহানাল্লাহ্

Sunday, May 7, 2017

পবিত্র লাইলাতুন নিস্‌ফে মিন শা’বান বা শবে বরাত

No comments:
শবে বরাত হচ্ছে ইসলামের বিশেষ রাত্রিসমূহের মধ্যে একটি রাত্র। যা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত্রিতে হয়ে থাকে। শবে বরাত-এর অর্থ হচ্ছে ‘মুক্তির রাত’ বা ‘নাজাতের রাত।’ ‘শব’ ফার্সী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে, রাত। আর বরাত আরবী শব্দ যা উর্দূ, ফার্সী, বাংলা ইত্যাদি সব ভাষাতেই ব্যবহার হয়ে থাকে। যার অর্থ ‘মুক্তি’ ও ‘নাজাত’ ইত্যাদি। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ভাষা যেহেতু আরবী তাই ফার্সী ‘শব’ শব্দটি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ না থাকাটাই স্বাভাবিক। 

স্মর্তব্য যে, কুরআন শরীফ-এর ভাষায় ‘শবে বরাতকে’ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী’ এবং হাদীছ শরীফ-এর ভাষায় শবে বরাতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ বা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে (শবে বরাতে) কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমিই ভয় প্রদর্শনকারী। উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজ গুলো ফায়সালা করা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দুখান-৩, ৪, ৫)

আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম-উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাত্রিযাপন করছিলাম। এক সময় উনাকে বিছানা মুবারক-এ না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়তো অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে উনাকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিনি উম্মতের জন্য আল্লাহ পাক-উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফে ফিরে আসলে তিনিও ফিরে এসে আমাকে বললেন, আপনি কি মনে করেছেন, আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন! আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো অপর কোন হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বনী কালবের মেষের গায়ে যতো পশম রয়েছে তার চেয়ে অধিক সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, রযীন, মিশকাত)

নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহ করেছেন। যা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা মানে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরই বিরুদ্ধে বলা; যা কাট্টা কুফরী।

No comments:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি) ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথাও বলেন না এবং কোনো কাজও করেন না।”
নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহ করেছেন। যা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা মানে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরই বিরুদ্ধে বলা; যা কাট্টা কুফরী।
অতএব, হক্কানী-রব্বানী আলিম-উলামাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- সরকারসহ জনগণকে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে ছহীহ ইলম ও সমঝ দেয়ার সাথে সাথে বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নত এ বিষয়টি বেশি বেশি প্রচার-প্রসার করা। আর সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে- বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন তুলে নিয়ে বাল্যবিবাহ বিরোধী সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া।

- ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম


যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- পবিত্র বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফসহ বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থেই ছহীহ বা নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত রয়েছে যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহ মুবারক করেছেন। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে ৬ বছর বয়স মুবারকে আক্বদ মুবারক করেছেন এবং ৯ বছর বয়স মুবারকে নিজ হুজরা শরীফে নিয়ে এসেছেন। যা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কাজেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা মানে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরুদ্ধে বলা; যা কাট্টা কুফরী। মুসলমান হয়ে কেউ যদি কোনো কুফরী করে তাহলে সে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘১৮ বছরের নিচে বিবাহ নিষিদ্ধ’- মূলত সরকারের এরূপ সিদ্ধান্ত এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানের দ্বীনী অনুভূতিতে চরমভাবে আঘাত হেনেছে। কেননা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলেছিলো- ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না।’ এছাড়া সরকার বিভিন্ন সময়ে নিজেদের ‘ইসলামবান্ধব সরকার’, সম্মানিত ইসলাম উনার ধারক-বাহক সরকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। 

মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমান। এখানে পবিত্র সুন্নত বন্ধ করে দেয়ার চেয়ে জঘন্য ইসলামবিরোধী কাজ আর কী হতে পারে? আর একটি পবিত্র সুন্নত মিটিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করলে মুসলিম জনগণ তা কখনো মেনে নিবে না। তাই সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে- বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন তুলে নিয়ে বাল্যবিবাহ বিরোধী সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া। নচেৎ সরকারকে ইহকাল ও পরকালে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হক্কানী-রব্বানী আলিম-উলামাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- সরকারসহ জনগণকে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে ছহীহ ইলম ও সমঝ দেয়ার সাথে সাথে বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নত এ বিষয়টি বেশি বেশি প্রচার-প্রসার করা।
-০-

বিভাগ: ওয়াজ শরীফ

No comments:

কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর আলোকে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে (২)

একজন কুতুবুয্ যামান-উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৪১

রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার নাম মুবারকের পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব বা উপাধির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ-৯৪

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

ফিক্বহুল হাদীছ ওয়াল আছার মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে- (১৫৯)

বিশ্ব সমাদৃত হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনুপম মুবারক চরিতগ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৫৯

মাহে যিলক্বদ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা -হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

বিভাগ: 

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩৩

প্রচলিত মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ সম্পর্কে হাটহাজারী মাদরাসার অখ্যাত মাসিক পত্রিকার জিজ্ঞাসার সমাধান সম্পর্কে

সুন্নতী টুপি মুবারক সম্পর্কে

ইহরাম অবস্থায় কি মেয়েদের জন্য পর্দা করার দরকার নেই?

ছবি তুলে হজ্জ করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কি হুকুম?

হজ্জ পালনের ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার আমলের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি?

হজ্জ আদায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানে আলাদা আলাদা দোয়া-দরূদ ও তাছাবীহ পড়ার নিয়ম

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব?

ওয়াজিব ও নফল কুরবানী

আইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনে কুরবানীর পশু কুরবানী করার পূর্বে অথবা কুরবানী করার সময়ে হাঁস, মুরগি, কবুতর ইত্যাদি যবেহ করা জায়িয আছে কি?

হালাল পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ?

কুরবানীর পশু যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয আছে কি?

কুরবানীর কিছুদিন আগে নাকি হাত ও পায়ের নখ কাটা, মোছ ছাঁটা এবং মাথার চুল ইত্যাদি কাটা যায় না? কুরবানী করার পর কাটতে হয়! কথাটা কতটুকু সত্য?

সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয়, তার গোশত পিতা-মাতা খেতে পারবে কি না?

ধর্মব্যবসায়ীদের মাদরাসাতে তথা জঙ্গি তৈরিকারী মাদরাসাগুলোতে কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে কি?

কুরবানী করার সুন্নতী পদ্ধতি এবং নিয়ত

যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এক নামে কুরবানী দিয়ে গোশত বণ্টন করে নিতে পারবে কিনা?

কোন ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব?

তাকবীরে তাশরীক কাকে বলে?

বিভাগ: 

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬

বিভাগ: 

রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৭৩

বিভাগ: 

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-২১

বিভাগ: 

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪০

পঞ্চদশ শতকের যিনি মুজাদ্দিদ এবং যিনি মুজাদ্দিদে আ’যম উনার মুবারক পরিচয়, আগমনের প্রেক্ষাপট, কারণ ও তাজদীদের ব্যাপ্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

No comments:

পঞ্চদশ শতকের যিনি মুজাদ্দিদ এবং যিনি মুজাদ্দিদে আ’যম উনার মুবারক পরিচয়, আগমনের প্রেক্ষাপট, কারণ ও তাজদীদের ব্যাপ্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ্, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা, রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্‌
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
আ‌লহাসানী, ওয়ালহুসাইনী, ওয়ালকুরাইশী, ওয়ালহানাফী, ওয়ালক্বাদিরী, ওয়ালচীশতী, ওয়ালনক্‌শবন্দী, ওয়ালমুজাদ্দিদী, ওয়ালমুহম্মদী
বংশ পরিচয়:
মুজাদ্দিদে আ’যমের মুবারক বংশ পরস্পরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সম্পৃক্ত। পিতা-মাতার দিক থেকে তিনি যথাক্রমে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে যুক্ত। এ কারণে তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। রক্ত মুবারকের ধারাবাহিকতায় সঙ্গতকারণেই তিনি আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী। অর্থাৎ তিনি আওলাদুর রসূল।
পথভ্রষ্ট ও গোমরাহীতে নিমজ্জিত মানুষকে হিদায়েত দানের লক্ষ্যে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ,হাবীবুল্লাহ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি বিভিন্ন দেশ হিজরত ও সফর শেষে আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সদয় নির্দেশে ছয়শত হিজরীর মাঝামাঝি সময়ে আজমীর শরীফে তাশরীফ আনেন। তাঁরই অন্তরঙ্গ সঙ্গী ঐ যামানায় আল্লাহ পাক-এর খাছ লক্ষ্যস’ল মাদারজাদ ওলী, আওলাদুর রসূল, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবূ বকর মুজাদ্দিদী রহমতুল্লাহি আলাইহিও আজমীর শরীফ তাশরীফ আনেন। হিদায়েত দানের কাজে নিমগ্ন হয়ে তিনি আজমীর শরীফ থেকে যান এবং সেখানেই ইন্তিকাল করেন। তাঁর অধস’ন সন্তান হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি এগারশ’ হিজরীর শেধার্ধে হিদায়েতের আলো নিয়ে আজমীর শরীফ থেকে চট্টগ্রাম এবং অতঃপর সোনারগাঁও হয়ে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জিলার আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী গ্রামে হিদায়েতের কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
তাঁর পুত্র হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালা উদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত্র সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলাহী বখশ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত্র সাইয়্যিদ মুহম্মদ এলাহী বখশ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং তাঁরই পুত্র আলোচ্য মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী।
পিতা-মাতা:
মুজাদ্দিদে আ’যমের বুযূর্গ পিতা-মাতা উভয়েই আল্লাহ পাক-এর খাছ ওলী। পিতা ওলীয়ে মাদারজাদ, আফদ্বালুল ইবাদ, ফখরুল আউলিয়া, লিসানুল হক্ব, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, ছাহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ছাহিবে ইসমে আ’যম, গরীবে নেওয়াজ, কুতুবুযযামান, আওলাদুর রসূল, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আল্লাহ পাক-এর লক্ষ্যস’ল খাছ ওলী। তিনি নায়িবে মুজাদ্দিদ, কুতুবুল আলম, আলহাজ্জ, হযরতুল আল্লামা আবু নছর মুহম্মদ আব্দুল হাই ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিশিষ্ট খলীফা।
ইলম, আমল ও কামিয়াবীঃ
সূক্ষ্ম মননশীলতা, অনাবিল অনুসাধিৎসা, মুরাকাবার নিবিষ্টতা, গরিচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা, ইলম অর্জনের আকুলতা, আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মা’রিফাত ও মুহব্বতের অতলান্ত গভীরতা এবং মুজাদ্দিদে আ’যমসুলভ মানসিকতা তিনি জন্ম সূত্রেই লাভ করেছেন। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদায় পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাসী। ইসলাম বিরোধী পুঞ্জীভূত তমসা দূর করে হিদায়েতের নূরে দুনিয়া আলোকিত করার জন্য আল্লাহ পাক তাঁর মাঝে সকল গুণ-বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। বিশ বছর বয়স মুবারকের মধ্যেই তিনি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, তাফসীর, ফিক্বাহ, উছূল, মানতিক, বালাগাত, ফাছাহাত, নাহু, ছরফ, সাহিত্য, কাব্য,ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন, বিজ্ঞানসহ ইসলামী ইলম-এর সকল শাখায় অতুলনীয় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। মুজাদ্দিদে আ’যমের জীবনের আয়োজন, ইলম, আমল ও কামিয়াবীর পরিধি ব্যাপকতর। ইলম, আমল, সমঝ্ ও মুহব্বত-মা’রিফাত নিজস্ব সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ পাক-এর উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় তিনি আত্মকেন্দ্রীক হতে পারেন না। মুজাদ্দিদে আ’যমের দায়িত্ব অপার। ইলমে তাছাউফ অর্জনের শরঈ কারণে তিনি কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত ওয়া রাহনুমায়ে তরীক্বত, সুলতানুল আরিফীন, শাইখুল আসাতিযা, নাজমুল আউলিয়া, জামিউল উলুম, ওয়াল হিকাম, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত। লিসানুল উম্মত, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাসসিরীন, ফখরুল ফুক্বাহা, আল্লামাতুল আইয়াম, মুফতিউল আ’যম, আশিকু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শাহ ছূফী, আলহাজ্জ, হযরতুল আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট বাইয়াত হয়ে প্রধান খলীফার মর্যাদালাভ করেন এবং পরিপূর্ণ কামিয়াবী হাছিল করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের পরিপূর্ণ অনুসারী। তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্ঘরূপে সুন্নতের অনুকরণ ও অনুসরণ করেন। মুস্তাহাব আমলও তিনি কখনো তরক করেন না। তাঁর ইবাদতে মগ্নতা ও ফিকিরের গভীরতা যেনো গারে হেরায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আল্লাহ পাককে অনুভবের মতো এক উদ্বেলিত ও নিরন্তর মনোনিবেশ।
রাসূলে মকবুল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে নিছবতঃ
মুজাদ্দিদে আ’যম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাছ নায়িব এবং তাঁর ক্বায়িম মক্বাম। তিনি সুন্নত যিন্দাকারী এবং বিদ্‌য়াত অপসারণকারী। অনুক্ষণ তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বতে নিমগ্ন। আচরণ, বিচরণ, কথা, কাজ, সীরত, ছূরত ও আমলের কোন কিছুতেই তিনি সুন্নতের খিলাফ কিছু করেন না। দায়িমী নিছবতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সদয় ইহ্‌সান ও নির্দেশেই আওলাদুর রসূল, মজুাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর তাজদীদসহ যাবতীয় কাজ পরিচালিত হয়।
মুজাদ্দিদ কাকে বলা হয়ঃ
ইসলাম মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলাম আল্লাহ পাক-এর মনোনীত, নিয়ামত ও সন’ষ্টিপ্রাপ্ত পরিপূর্ণ এক দ্বীনি ব্যবস্থা। এতে মানুষকে হাক্বীক্বীভাবে প্রশিক্ষিত ও নিবিষ্ট করার কাজে পৃথিবীতে যুগে যুগে নিয়োজিত থাকেন ওয়ারাসাতুল আম্বিয়াগণ। আল্লাহ পাক-এর মত এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রদর্শিত পথে যাঁরা আমরণ ইস্তিক্বামত থাকেন এবং মানুষকে ইস্তিক্বামত করেন, তাঁরাই ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া। অবুঝ, লক্ষ্যভ্রষ্ট ও বিপথগামী মানুষের আক্বীদা, অনুভব ও অনুসরণকে সুন্নতের বিধানে আল্লাহমুখী করে দেয়ার জন্য এমন মহান ব্যক্তিত্ব দুনিয়ায় সব সময়ই মওজুদ থাকেন। এ মহান ও আয়াসসাধ্য দায়িত্বপালনের জন্য প্রতি শতাব্দীতেই সংষ্কারকের আবির্ভাব ঘটে। এমন সংস্কারককে মুজাদ্দিদ বলা হয়। হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছেঃ “আল্লাহ পাক এই উম্মতের হিদায়েতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর প্রারম্ভে এমন এক ব্যক্তিত্ব পাঠিয়ে থাকেন, যিনি উম্মতের জন্য ইসলাম ধর্মের সংষ্কারসাধন করে থাকেন।”
মুজাদ্দিদে আ’যম কাকে বলা হয়ঃ
কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস বিরোধী ভ্রান্ত আক্বীদা, আমল ও আখলাক নির্মূলে লক্ষ্যচ্যূত মানুষের ঈমান ও আক্বীদা নবায়নসহ তাদেরকে সুন্নত পালনে অভ্যস্ত করে তোলার কাজে নিয়োজিত ওলীগণকে মুজাদ্দিদে আ’যম বলা হয়। সুন্নত অবলোপনে দুনিয়ালোভী আলিমদের ঘৃণ্য কারসাজি যখন অব্যাহত থাকে, দূর্বলের প্রতি তথাকথিত সবলের উৎপীড়নের মাত্রা যখন সীমা লঙ্ঘন করে, ইনসাফের বাণী যখন নিভৃতে কাঁদে, জালিমের অত্যাচারে মজলুম যখন অতিষ্ঠ হয়, দুনিয়াদার আলিমদের নেপথ্য যোগানদারিতে ইহুদী-নাছারাসহ তাবৎ বিধর্মীরা যখন মুসলমানের ঈমান ও আক্বীদা বিনষ্টসহ সমূহ ক্ষতিসাধনে লিপ্ত থাকে এবং তাদের প্রিয় আবাসভূমি পর্যন্ত গ্রাস করতে উদ্যত হয়, নিকৃষ্ট বুদ্ধিজীবি, ও উলামায়ে ছূ’রা যখন আপন স্বার্থ হাছিলে বিধর্মীদের কূটকৌশলে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়, তখনই এসব থেকে পরিত্রানের জন্য একজন মুজাদ্দিদে আ’যমের তাজদীদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে। মুজাদ্দিদের কর্মপরিধি থেকে মুজাদ্দিদে আ’যম-এর কর্মপরিধি ব্যাপকতর। মুজাদ্দিদে আ’যমের প্রভাব বিশ্বব্যাপী।
পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম-এর আগমন এবং তাজদীদের প্রকৃতি ও পরিধিঃ
শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রমণে তাওহীদ ও রিসালত পরিপন্থী ঈমান, আক্বীদা ও আমলে মানুষ গোমরহীতে নিমজ্জিত হয়। কালের প্রবাহে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত উপলব্ধি, নৈতিক অবক্ষয় ও বিরূপ জীবনাচরণের মধ্যে বিদ্য়াত-এর জন্ম হয় এবং সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী কাজের প্রসার ঘটে। ক্রমান্বয়ে মানুষ শিরক ও কুফরীর তমসায় আচ্ছন্ন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এমন অবস্থাই বিরাজমান। মহান আল্লাহ পাক এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মত-পথের বিপরীত ও সাংঘর্ষিক যাবতীয় আক্বীদা, আমল, আখলাক ও রসম-রিওয়াজের মূলোৎপাটন করে হাক্বীক্বী ইসলাম ধর্ম আবাদের অনূকুল ক্ষেত্র তৈরীর প্রয়োজনে আল্লাহ পাক-এর উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় এবং রউফুর রহীম, রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সদয় ইহ্সানে পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম-এর প্রয়োজন অনিবার্য হয়ে উঠে। রিসালতের ধারার ইসলামী রেনেসাঁ (তাজদীদ) এবং আধ্যাত্ম চিন্তা ও ইলমে তাছাউফ-এর সুষ্ঠু বিন্যাস ও প্রয়োগে নিরন্তর নিয়োজিত থাকায় মুজাদ্দিদে আ’যম-এর মর্যাদা সমধিক। দুনিয়ার প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশে তাঁর তাজদীদের পরিধি ব্যাপক ও ভিন্নতর।
পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম-এর পরিচিতিঃ
বর্তমান প্রতিকূল প্রেক্ষাপটে মানুষের পরিত্রানের জন্য আল্লাহ পাক-এর মনোনীত এবং কুল কায়িনাতের মুবারকবাদ সিক্ত খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ্, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা, রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্‌
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনিই হলেন পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে আ’যম। তাঁর মর্যাদা, মরতবা, শান, মান, ইজ্জত ও ঐতিহ্যের অত্যুঙ্গ সোপান কেবল আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সম্যক অবহিত। অগণিত লক্ববের মধ্যে তাঁর একটি মূল লক্বব হলো “মুজাদ্দিদে আ’যম”।
তাজদীদের ক্ষেত্রঃ
মুজাদ্দিদে আ’যমের তাজদীদের মূল লক্ষ্য ও ক্ষেত্র কোন জনপদের ভৌগোলিক সীমানা অথবা অবকাঠামো নয়। লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরের নোংরা অনুভব, অনৈতিক আচরণ ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। ইসলামী পরিভাষায় যার নাম ঈমান, আক্বীদা, ইলম, আমল ও ইখলাছ। একটি সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে জনগণ, সরকার ও সার্বভৌমত্বের সমন্বিত রূপকে রাষ্ট্র বলা হয়। ইসলাম এমন রাষ্ট্র সমর্থন করে না। কারণ, ইসলাম নির্দিষ্ট কোন সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। ইসলাম সার্বজনীন এবং এর আবেদন বিশ্বব্যাপী। ইসলামের কাজ হলো, জগৎময় মানুষের অন্তরকে শাণিত করে তোলা এবং তাঁদের মন ও মননে কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফের সমন্বয়ে সৃষ্ট ইলমে তাছাউফের নির্যাস প্রবেশ করিয়ে দেয়া। অর্থাৎ মানুষকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং পৃথিবীব্যাপী “খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়া” প্রতিষ্ঠিত করা। এ লক্ষ্যে মুজাদ্দিদে আ’যম-এর তাজদীদের ক্ষেত্র গোটা বিশ্বের সকল মানুষ। বিপন্ন ও পথহারা মানুষের হিদায়েতের জন্য তিনি বেমেছাল রূহানী কুওওয়ত সম্পন্ন আলোকবর্তিকা। অন্যসব ধর্ম ও জাতি, গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষে অপামর মানুষের জন্যও তিনি মনোনীত হাদী। পরিপূর্ণরূপে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ অনুসরণে মানুষকে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং জগৎব্যাপী ইনসানিয়াত প্রতিষ্ঠায় পঞ্চদশ শতকে তিনি আল্লাহ পাক এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠতম উপহার। আল্লাহ পাক এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহকামের প্রতি জগৎব্যাপী মানুষের অনীহা, ভ্রান্ত আক্বীদা, সুন্নতের প্রতি অবজ্ঞা এবং ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে তিনি বেদনাক্লিষ্ট হয়ে পড়েন। এ বেদনাবোধই তাঁর অপ্রতিরোধ্য তাজদীদের ভিত্ রচনা করে।
তাজদীদের প্রণালীঃ
বিপর্যস্ত আক্বীদা, কুফরী ও নাস্তিকতার ঘোর দুর্দিনে আল্লাহ পাক এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাছ লক্ষ্যস’ল মুজাদ্দিদে আ’যম হাক্বীক্বী হিদায়েতের জন্য বিশ্ববাসীকে ডাক দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তাঁর মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত মাসিক “আল বাইয়্যিনাত” ও দৈনিক “আল ইহ্সান” পত্রিকার সঠিক দিক নির্দেশনায় বিশ্বময় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাতিলের মুখোশ উম্মোচন ও বাতিলকে পর্যুদস্ত করে হক্ব মত-পথ প্রতিষ্ঠায় এ দু’টি পত্রিকার অমিয় আহ্বানে মানুষ দুনিয়াদার আলিম, ইসলামের শত্রু ও বাতিলকে চিনতে ও বুঝতে শিখ্ছে। মানুষের ইছলা’র জন্য এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কিতাব রচনা করে ইসলামের হক্ব বক্তব্য তুলে ধরছেন। একইভাবে সহজ-সরল এবং হৃদয়গ্রাহীভাব ও ভাষায় নিয়মিতভাবে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ওয়াজ-নছীহত ও তা’লীম তালক্বীন-এর মাধ্যমে আপামর মানুষের মনে ইসলামী জয্বা সৃষ্টি করছেন। দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ তাঁর মুরীদ হচ্ছে। অসংখ্য বিধর্মী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। তাঁর যিকির-ফিকিরের তা’লীমে লক্ষ লক্ষ মুরীদের অন্তর ইছলাহ হচ্ছে। ইলমে তাছাউফে দীক্ষিত হয়ে অগণিত মানুষ সত্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবলুপ্ত সুন্নত জিন্দায় মানুষকে হক্ব মত-পথে ফিরিয়ে আনতে তাঁর বিশ্বময় অতুলনীয় অবদান ইতোমধ্যেই মানুষ জেনে ফেলেছে।
কতিপয় তাজদীদের বিষয়ঃ
মুজাদ্দিদে আ’যমের তাজদীদের মূল বিষয় হলো, কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী বদ্ আক্বীদা, আমল, অন্যায়, অবিচারের মূলোৎপাটন। ইসলাম বিরোধী যাবতীয় বিশ্বাস ও কার্যকলাপই তাঁর তাজদীদের ক্ষেত্র। দুনিয়ালোভী আলিমদের মনগড়া ফতওয়ার কারণে বর্তমানে অনেক মানুষ সরাসরি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ বিরোধী আক্বীদা ও আমলে লিপ্ত। মুজাদ্দিদে আ’যম শরীয়তের মূল দলীল, অর্থাৎ কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের ভিত্তিতে সঠিক আক্বীদা ও আমল তুলে ধরছেন এবং ইসলাম ধর্মে প্রবেশকৃত সকল কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াত অপসারণের কাজে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রয়েছেন। যেসব হারাম ও নাজায়িয বিষয়ের মূলোৎপানে তিনি
নিয়োজিত, তাঁর কতিপয় নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
বেপর্দা, ছবি, গণতন্ত্র, খেলাধুলা, নারী নেতৃত্ব, মুসলমানের মৌলবাদ দাবী, ব্লাসফেমী আইন, নবী-রসূল আলাইহিস্সালাম, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং আওলিয়ায়ে কিরামগণকে দোষারোপ করা, টিভি, ভিসিআর, ভিডিও, হরতাল, লংমার্চ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, সুদ-ঘুষ, রোযা রেখে ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ইত্যাদি নেয়া, মাযহাব মানা, বিজাতীয় ও বিধর্মী যাবতীয় আমল ইত্যাদি।
মুজাদ্দিদে আ’যমের বিরোধিতাঃ
বলা হয়, “প্রত্যেক হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম, অর্থাৎ প্রকৃত হাদীর বিরোধিতার জন্য একজন ফিরাউন অর্থাৎ একজন বিরোধী রয়েছে। তদ্রুপ প্রত্যেক ফিরাউন, অর্থাৎ গোমরাহকে হিদায়েতের জন্য একজন হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম অর্থাৎ প্রকৃত হাদী থাকেন।” বাতিল পন্থীরা আল্লাহ পাক-এর মাহবুব ওলীগণের বিরোধিতায় লিপ্ত থাকে একথা নুতন নয়, বিস্মিত হওয়ার মতোও নয়। কারণ ইহুদী-নাছারাদের মনোনীত এজেন্ট দুনিয়াদার আলিমদের গোপন ও প্রকাশ্য কারসাজি মুজাদ্দিদে আ’যমের অপ্রতিরোধ্য হিদায়েতের কারণে নিষ্প্রভ হয়। কায়েমী স্বার্থ রক্ষায় বাতিলপন্থীরা অন্যায় ও দলীলবিহীন বিরোধিতায় হক্ব মিটিয়ে ফেলার অপপ্রয়াসে লিপ্ত থাকে। কিন্তু সবসময় হক্ব বিজয় হয় আর নাহক্ব নিশ্চিহ্ন হয়। এ মর্মে আল্লাহ পাক বলেন, ׂতারা (বাতিলপন্থীরা) চায় মুখের ফুৎকারে আল্লাহ পাক মনোনীত হাদীকে মিটিয়ে দিতে। অথচ আল্লাহ পাক তাঁর হাদীকে অবশ্যই কামিয়াবী দান করবেন। যদিও কাফির বা বাতিলপন্থীরা তা পছন্দ করে না।׃ (সূরা ছফ-৮) এখানে যা ফিকিরের তা হলো, সুন্নত আমলের অনেক বিষয় ওলীআল্লাহগণের হিম্মত ও অনুশীলনের পর্যায়ভুক্ত থাকে না। তবে মাহবুব ওলীগণের প্রত্যাশিত ও অপ্রত্যাশিত অনেক সুন্নতের আমল আল্লাহ পাক-এর অবারিত রহমত এবং রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সদয় ইহ্সানে পূর্ণতা পেয়ে যায়। এ কারণে তাবলীগী, ওহাবী, খারিজী, দেওবন্দী, রেযাখানী, জামাতী, লা মাযহাবীসহ যাবতীয় বাতিল ফিরক্বাসমূহের নাহক্ব বিরোধিতা ওলীআল্লাহগণের কাম্য। এতে তাঁদের তাজদীদ পূর্ণতার পথে প্রবল গতিবেগ পায় এবং তাঁদের মান, শান, ইজ্জত, ঐতিহ্য ও মর্যাদা নিরন্তন বৃদ্ধি পায়। মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী’র ক্ষেত্রে হুবহু তাই ঘটেছে।
প্রকাশ্য বাহাছ ও চ্যালেঞ্জঃ
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইসলামের সকল বিষয়েই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত তথা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস সম্মত আক্বীদা পোষণ করেন এবং আমল করে থাকেন। কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের আলোকে পৃথিবীর কেউ বা কোন মহল যদি তাঁর কোন কথা, কাজ, লিখা, সীরত, ছূরত- ও আমলে কোন ত্রুটি উদ্ঘাটন করতে পারে, তবে তিনি তা বিনা দ্বিধায় মেনে নিতে সম্মত আছেন। কিন’ এসবক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষের কোন ভুল-ত্রুটি উদ্ঘাটিত হলে দলীলের ভিত্তিতে তা তাদেরকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। যারা মুজাদ্দিদে আ’যমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে এবং তাঁর আক্বীদা ও আমল সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে তাদের প্রতি শর্ত সাপেক্ষে প্রকাশ্য বাহাছ ও চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘোষণা নিয়েমিতভাবে মাসিক “আল বাইয়্যিনা” ও দৈনিক “আল ইহসান” পত্রিকায় দেয়া হচ্ছে। এ বাহাছ পৃথিবীর যে কোন জায়গায়, যে কোন সময় হতে পারে। কিন’ বাহাছের আহ্বানে বাতিলপন্থীরা পূর্বেও সাড়া দেয়নি, এখনো দিচ্ছে না। কখনো সাড়া দিবে বলেও মনে হয় না। কারণ, বাতিল ও নাহক্ব পন্থীদের দলীলবিহীন লম্ফঝম্ফ কেবল নির্ধারিত বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী’র সামনে আসতে তাদের চিরকালের ভয়।

মাসিক আল বাইয়্যিনাত’

No comments:

মাসিক আল বাইয়্যিনাত

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এর ঊনসত্তরটি আয়াত শরীফ-এর মধ্যে ‘আল বাইয়্যিনাত’ শব্দটি পঁয়ত্রিশ বার, ‘বাইয়্যিনাত’ শব্দটি সতর বার, ‘আল বাইয়্যিনাহ্’ শব্দটি দু’বার, ‘বাইয়্যিনাহ্’ শব্দটি সতর বার, সর্বমোট একাত্তর বার ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআন শরীফ-এর ১১৪ খানা সূরার মধ্যে ৯৮ নং সূরার নাম ‘আল বাইয়্যিনাহ্’। ‘আল বাইয়্যিনাহ্’ শব্দের অর্থ- অকাট্য, স্পষ্ট, উজ্জ্বল, প্রকাশ্য ও প্রামাণ্য দলীলসমূহ। অতএব, পত্রিকার নামের অর্থের সঙ্গে সঙ্গতি ও সামঞ্জস্য রক্ষা করে ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’ পত্রিকার পাতায় পাতায় ইলম ও আমল সম্পর্কিত যাবতীয় বক্তব্য ও বিষয়বস্তু দলীল-প্রমাণ পেশ ও প্রকাশ করা হয়।
তাই মনগড়া বা কল্পনাপ্রসূত কথামালায় ভরা নয় বরং দলীল-প্রমাণনির্ভর যুক্তিযুক্ত, বাস্তবসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য বিশ্লেষণে পরিপূর্ণ ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’ আপনার জন্য হতে পারে একটি মূল্যবান সহায়, একটি দিশারী, উছীলা। মূল্য দিয়ে যার মূল্যায়ন করা যাবে না, না পড়ে যার গুরুত্ব বুঝা যাবে না, যা পড়ে আপনার সময় কেটে যাবে পূর্ণ জ্ঞানার্জনে, তেমনি একটি পত্রিকার নাম ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’

‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’ পত্রিকার মূলনীতি-

“যে ব্যক্তি মুহব্বত করে আল্লাহ পাক-উনার জন্য, বিদ্বেষ পোষণ করে আল্লাহ পাক-উনার জন্য, আদেশ (দান) করে আল্লাহ পাক-উনার জন্য, নিষেধ করে আল্লাহ পাক-উনার জন্য, সে ঈমানে পরিপূর্ণ।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী, মিশকাত)

Thursday, April 6, 2017

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

No comments:
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, 
ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
=================================
ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক! মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম ঈদ, সকল ঈদের সেরা ঈদ, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাস রবীউল আউয়াল শরীফ। এ মুবারক মাসের ১২ তারিখ মুবারক দিনটি উম্মাহর জন্য শ্রেষ্ঠতম ঈদ উদ্‌যাপনের দিন । কারণ, এ মুবারক দিনটি যদি আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুভাগমনের অন্তর্ভুক্ত না হতো তাহলে শবে ক্বদর, শবে বরাত, ঈদুল ফিত্‌র্, ঈদুল আযহা, জুমুয়া ইত্যাদি ফযীলতপূর্ণ কোন দিন-রাতেরই আগমন ঘটতো না। শুধু তাই নয়, কুরআন শরীফ নাযিল হতো না, দ্বীন ইসলাম আসতো না এবং কোন মু’মিন-মুসলমানের অস্তিত্বও থাকতো না। ফলে, শরীয়ত এ মুবারক দিনটিকে নির্ধারণ করেছে ‘সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ’ হিসেবে এবং এ ঈদ পালন করাকে ফরয সাব্যস্ত করেছে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক ফযল-করম হিসেবে তাদেরকে যে দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন, কুরআন শরীফ দিয়েছেন এবং রহমত হিসেবে উনার প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশী প্রকাশ করে।” (সূরা ইউনুস-৫৮) 
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন সূরা কাওছার-এ ইরশাদ করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার দান করেছি।” ‘কাওছার’-এর অনেক অর্থ রয়েছে তার মধ্যে একটি অর্থ হচ্ছে খইরে কাছির। অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ পাক সমস্ত ভাল উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ বিষয় ও জিনিসগুলো হাদিয়া করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ। 
তাই সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের ইজমা হয়েছে যে, ‘রওজা শরীফ-এর যে মাটি মুবারক আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক স্পর্শ করে আছে, সে মাটি মুবারক-এর মর্যাদা লক্ষ-কোটি আরশে আযীম-এর চেয়েও বেশি।’(সুবহানাল্লাহ) আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তায়াল্লুক-নিছবত থাকার কারণে মাটি মুবারক-এর যদি এত মর্যাদা-মর্তবা হয়ে থাকে তাহলে আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে তারিখে, যে দিবসে, যে মাসে যমীনে এসেছেন অর্থাৎ ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ-এর কতটুকু মর্যাদা-মর্তবা রয়েছে সেটা খুব সহজেই অনুধাবনীয়। সেদিন সমস্ত ঈদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঈদ। সমস্ত দিনের চেয়ে বেশি সম্মানিত, ফযীলতপ্রাপ্ত দিন ও তারিখ।
======================================================

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রকাশিত
http://al-ihsan.net/specialdays/SaiyeedulAiyadShareef/
====================================================================

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

No comments:
পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম
===================================
আরবী বছরের প্রথম মাস মুহররম। আরবী বারটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ ঘোষণা করা হয়েছে, মুহররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। আসমান-যমীন সৃষ্টিকাল হতেই এ মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে আসছে। এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহররম “আশূরা” দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এই দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয়। 
 আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উল্লেখযোগ্য কোনো না কোনো ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গত কারণেই এ দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন সাথে সাথে রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত হাছিল করারও দিন। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মর্যাদা, সম্মান ও খুছূছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দোয়া কবুল করা হয়। এ দিন মহান আল্লাহ পাক রব তায়ালা তিনি হযরত ইদরীস আলাইহিস সালাম উনাকে আকাশে তুলে নেন। এ দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তিকে জুদি পাহাড়ে ভিড়িয়েছিলেন। এ দিন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ হয় এবং এই দিন উনাকে খলীল উপাধি দেয়া হয় এবং উনাকে নমরূদের আগুন থেকে বের করে আনা হয় অর্থাৎ হিফাযত করা হয়। এ দিন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এ দিন হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালাম তিনি অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করেন। এ দিন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি কথা বলেছিলেন এবং তাওরাত শরীফ নাযিল করেছিলেন। এ দিনেই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার সম্প্রদায় লোহিত সাগর পার হয়েছিলেন। এ দিন হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছের পেট থেকে বের হয়েছিলেন। এ দিনই হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করেন এবং এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম যমীনে বৃষ্টি নাযিল করেন। এ দিনেই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি রহমতসহ সর্বপ্রথম যমীনে নাযিল হন। আর এদিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম পৃথিবীতে রহমত বর্ষণ করেন।

গুরুত্ব
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা মুহররম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশূরার দিনকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মুহররম মাস তথা আশূরার দিনকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।” 
এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ওয়াকিয়া বর্ণিত রয়েছে, এক ব্যক্তি ছিলো গরিব ও আলিম। একবার অসুস্থতার কারণে তিনি তিন দিন যাবৎ কাজ করতে পারলেন না। চতুর্থ দিন ছিল আশূরার দিন। তিনি আশূরার দিনে ভাল খাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে জানতেন। তখন ছিলো কাজীদের (বিচারক) যুগ। কাজী ছাহেব ধনী ব্যক্তি ছিলো। তার কাছে আশূরার ফযীলতের কথা বলে এবং নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের অভুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে দশ সের আটা, দশ সের গোশত ও দুই দিরহাম চাইলেন যে, ‘এই পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য হাদিয়া অথবা কর্জ হিসেবে দিন।’ কাজী ছাহেব তাকে যোহরের সময় আসতে বললো। যোহরের সময় কাজী ছাহেব বললো, আছরে আসতে। কিন্তু এরপরে আছরের সময় মাগরিব, মাগরিবের সময় ইশা এবং ইশার সময় সরাসরি না করে দিলো। তখন গরিব আলিম ব্যক্তি বললেন, হে কাজী ছাহেব! আপনি আমাকে দিতে পারবেন না সেটা আগেই বলতে পারতেন, আমি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু তা না করে আমাকে সারাদিন ঘুরিয়ে এই শেষ মুহূর্তে না করছেন? কাজী ছাহেব সেই গরিব, আলিম ব্যক্তির কথায় কর্ণপাত না করে ঘরের দরজা বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো।
মনের দুঃখে আলিম লোকটি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। পথে ছিলো এক খ্রিস্টানের বাড়ি। একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখে উক্ত খ্রিস্টান তাঁকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু বিধর্মী বিধায় খ্রিস্টানকে প্রথমে তিনি কিছু বলতে চাইলেন না। অতঃপর খ্রিস্টানের অধীর আগ্রহের কারণে তিনি আশূরার ফযীলত ও তার বর্তমান দুরবস্থার কথা ব্যক্ত করলেন। খ্রিস্টান ব্যক্তি তখন উৎসাহী হয়ে তাকে আশূরার সম্মানার্থে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং অতিরিক্ত আরো ২০ দিরহাম দিল এবং বললো যে, আপনাকে আমি আশূরার সম্মানার্থে প্রতিমাসে এ পরিমাণ হাদিয়া দিবো। ওই ব্যক্তি তখন তা নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং খাবার তৈরি করে ছেলে-মেয়েসহ আহার করলেন। অতঃপর দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ পাক! যে ব্যক্তি আমাকে সন্তুষ্ট করলো, আমার ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফোটালো, আল্লাহ পাক আপনি তার দিল খুশি করে দিন, তাকে সন্তুষ্ট করে দিন।” 
ওই রাতে কাজী ছাহেব স্বপ্ন দেখলো। স্বপ্নে কাজী ছাহেবকে বলা হচ্ছে, হে কাজী ছাহেব! তুমি মাথা উত্তোলন করো। মাথা তুলে কাজী ছাহেব দেখতে পেলো যে, তার সামনে দুটি বেহেশতের বালাখানা। একটি স্বর্ণের আরেকটি রৌপ্যের। কাজী ছাহেব বললো, ‘আয় আল্লাহ পাক! এটা কি?’ গায়িবী আওয়াজ হলো, ‘এ বালাখানা দুটি তোমার ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে গরিব আলিম লোকটি আশূরা উপলক্ষে সাহায্যের জন্য এসেছিলেন তাকে তুমি সাহায্য করোনি। এজন্য এ বালাখানা দুটি এখন ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ অতঃপর কাজী ছাহেবের ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম থেকে উঠে ওজু ও নামায আদায় করে সেই খ্রিস্টানের বাড়িতে গেলো। খ্রিস্টান কাজী ছাহেবকে দেখে বিস্ময়াভূত হলো। কারণ কাজী ছাহেব খ্রিস্টানের পড়শি হওয়া সত্ত্বেও জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সময় তার বাড়িতে আসতে দেখেনি। 
অতঃপর খ্রিস্টান ব্যক্তি কাজী ছাহেবকে বললো, ‘আপনি এতো সকালে কি জন্য এলেন?’ কাজী ছাহেব বললো, ‘হে খ্রিস্টান ব্যক্তি! তুমি গত রাতে কি কোনো নেক কাজ করেছো?’ খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, আমার খেয়ালে আসে না যে, আমি কোনো উল্লেখযোগ্য নেক কাজ করেছি। তবে আপনি যদি জেনে থাকেন তাহলে আমাকে বলতে পারেন। তখন কাজী ছাহেব বললো, তুমি গত রাতে আশূরা উপলক্ষে এক গরিব আলিমকে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং তার সাথে আরো বিশ দিরহাম হাদিয়া করেছো এবং প্রতি মাসে তাঁকে এ পরিমাণ হাদিয়া দেয়ার ওয়াদা করেছো। খ্রিস্টান ব্যক্তি তা স্বীকার করলো। কাজী ছাহেব বললো, তুমি তোমার এই নেক কাজ এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে আমার নিকট বিক্রি করে দাও এবং তুমি উনার সাথে প্রত্যেক মাসে যে ওয়াদা করেছো আমি তাঁকে তা দিয়ে দিবো।’ খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আপনি কি জন্য এই সামান্য হাদিয়া করার বিনিময়ে আমাকে এক লক্ষ দিরহাম দিবেন সেটা স্পষ্ট করে বলুন? তখন কাজী ছাহেব তার স্বপ্নের কথা খুলে বললো যে, এই গরিব আলিম আশূরা উপলক্ষে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছিলো আমি তাকে সাহায্য করিনি। যার কারণে রাতের বেলা আমাকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দ্বারা তৈরি বেহেশতের দুটি বালাখানা স্বপ্নে দেখিয়ে বলা হয়েছে, হে কাজী ছাহেব! ‘এ বালাখানা দুটি তোমার ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে গরিব আলিম লোকটি আশূরা উপলক্ষে সাহায্যের জন্য এসেছিলেন তাকে তুমি সাহায্য করোনি। এজন্য এ বালাখানা দুটি এখন ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ কাজী ছাহেব বললো, তুমি তো খ্রিস্টান। তুমি তো এই বালাখানা পাবে না। কারণ, ইসলাম আসার পরে পূর্ববর্তী সমস্ত ধর্ম বাতিল হয়ে গেছে। কাজেই সেই ধর্মের উপর যারা থাকবে তারা জান্নাত লাভ করতে পারবে না। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি তাহলে কি এই বালাখানার মালিক হতে পারবো? তখন কাজী ছাহেব বললো, হ্যাঁ, তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করো তাহলে বালাখানা লাভ করতে পারবে। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আপনি সাক্ষী থাকুন আমি এক্ষণি কালিমা শরীফ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ খ্রিস্টান ব্যক্তি পবিত্র আশূরাকে সম্মান করার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাঁকে ঈমান দান করলেন এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দিয়ে জান্নাত দান করলেন। 
আশূরা শরীফকে কেন্দ্র করে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই বক্তৃতা ও লিখনীতে বেশকিছু কুফরী আক্বীদার বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। যেমন- কেউ কেউ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেসহ অনেক নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমালোচনা করে থাকে। অর্থাৎ তাদের বক্তব্য হলো উনারা গুনাহখতা করেছেন, আল্লাহ পাক তিনি আশূরার দিনে উনাদেরকে ক্ষমা করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! আবার কেউ কেউ কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট ছাহাবী, কাতিবে ওহী, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেসহ অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কঠোর সমালোচনা করে, তিরস্কার করে, গালি-গালাজ করে। নাঊযুবিল্লাহ! 
অথচ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ছহীহ ও বিশুদ্ধ আক্বীদা হচ্ছে- সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম অর্থাৎ সর্বপ্রকার গুনাহখতা, ভুল-ত্রুটি, লগজেস থেকে পবিত্র। এর খিলাফ আক্বীদা পোষণকারীরা মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। অপরদিকে হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিসহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করাও কাট্টা কুফরী। যারা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করে তারাও কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর দৃষ্টিতে কাট্টা কাফির।
=======================================================================

 
back to top