Thursday, April 6, 2017

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

No comments:
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, 
ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
=================================
ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক! মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম ঈদ, সকল ঈদের সেরা ঈদ, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাস রবীউল আউয়াল শরীফ। এ মুবারক মাসের ১২ তারিখ মুবারক দিনটি উম্মাহর জন্য শ্রেষ্ঠতম ঈদ উদ্‌যাপনের দিন । কারণ, এ মুবারক দিনটি যদি আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুভাগমনের অন্তর্ভুক্ত না হতো তাহলে শবে ক্বদর, শবে বরাত, ঈদুল ফিত্‌র্, ঈদুল আযহা, জুমুয়া ইত্যাদি ফযীলতপূর্ণ কোন দিন-রাতেরই আগমন ঘটতো না। শুধু তাই নয়, কুরআন শরীফ নাযিল হতো না, দ্বীন ইসলাম আসতো না এবং কোন মু’মিন-মুসলমানের অস্তিত্বও থাকতো না। ফলে, শরীয়ত এ মুবারক দিনটিকে নির্ধারণ করেছে ‘সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ’ হিসেবে এবং এ ঈদ পালন করাকে ফরয সাব্যস্ত করেছে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক ফযল-করম হিসেবে তাদেরকে যে দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন, কুরআন শরীফ দিয়েছেন এবং রহমত হিসেবে উনার প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশী প্রকাশ করে।” (সূরা ইউনুস-৫৮) 
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন সূরা কাওছার-এ ইরশাদ করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার দান করেছি।” ‘কাওছার’-এর অনেক অর্থ রয়েছে তার মধ্যে একটি অর্থ হচ্ছে খইরে কাছির। অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ পাক সমস্ত ভাল উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ বিষয় ও জিনিসগুলো হাদিয়া করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ। 
তাই সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের ইজমা হয়েছে যে, ‘রওজা শরীফ-এর যে মাটি মুবারক আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক স্পর্শ করে আছে, সে মাটি মুবারক-এর মর্যাদা লক্ষ-কোটি আরশে আযীম-এর চেয়েও বেশি।’(সুবহানাল্লাহ) আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তায়াল্লুক-নিছবত থাকার কারণে মাটি মুবারক-এর যদি এত মর্যাদা-মর্তবা হয়ে থাকে তাহলে আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে তারিখে, যে দিবসে, যে মাসে যমীনে এসেছেন অর্থাৎ ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ-এর কতটুকু মর্যাদা-মর্তবা রয়েছে সেটা খুব সহজেই অনুধাবনীয়। সেদিন সমস্ত ঈদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঈদ। সমস্ত দিনের চেয়ে বেশি সম্মানিত, ফযীলতপ্রাপ্ত দিন ও তারিখ।
======================================================

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ ১৪৩৩ উপলক্ষে প্রকাশিত
http://al-ihsan.net/specialdays/SaiyeedulAiyadShareef/
====================================================================

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

No comments:
পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম
===================================
আরবী বছরের প্রথম মাস মুহররম। আরবী বারটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ ঘোষণা করা হয়েছে, মুহররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। আসমান-যমীন সৃষ্টিকাল হতেই এ মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে আসছে। এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহররম “আশূরা” দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এই দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয়। 
 আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত প্রায় সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উল্লেখযোগ্য কোনো না কোনো ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গত কারণেই এ দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন সাথে সাথে রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত হাছিল করারও দিন। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মর্যাদা, সম্মান ও খুছূছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দোয়া কবুল করা হয়। এ দিন মহান আল্লাহ পাক রব তায়ালা তিনি হযরত ইদরীস আলাইহিস সালাম উনাকে আকাশে তুলে নেন। এ দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তিকে জুদি পাহাড়ে ভিড়িয়েছিলেন। এ দিন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ হয় এবং এই দিন উনাকে খলীল উপাধি দেয়া হয় এবং উনাকে নমরূদের আগুন থেকে বের করে আনা হয় অর্থাৎ হিফাযত করা হয়। এ দিন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এ দিন হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালাম তিনি অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করেন। এ দিন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি কথা বলেছিলেন এবং তাওরাত শরীফ নাযিল করেছিলেন। এ দিনেই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার সম্প্রদায় লোহিত সাগর পার হয়েছিলেন। এ দিন হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছের পেট থেকে বের হয়েছিলেন। এ দিনই হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করেন এবং এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম যমীনে বৃষ্টি নাযিল করেন। এ দিনেই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি রহমতসহ সর্বপ্রথম যমীনে নাযিল হন। আর এদিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম পৃথিবীতে রহমত বর্ষণ করেন।

গুরুত্ব
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা মুহররম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশূরার দিনকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মুহররম মাস তথা আশূরার দিনকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।” 
এ প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ওয়াকিয়া বর্ণিত রয়েছে, এক ব্যক্তি ছিলো গরিব ও আলিম। একবার অসুস্থতার কারণে তিনি তিন দিন যাবৎ কাজ করতে পারলেন না। চতুর্থ দিন ছিল আশূরার দিন। তিনি আশূরার দিনে ভাল খাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে জানতেন। তখন ছিলো কাজীদের (বিচারক) যুগ। কাজী ছাহেব ধনী ব্যক্তি ছিলো। তার কাছে আশূরার ফযীলতের কথা বলে এবং নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের অভুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে দশ সের আটা, দশ সের গোশত ও দুই দিরহাম চাইলেন যে, ‘এই পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য হাদিয়া অথবা কর্জ হিসেবে দিন।’ কাজী ছাহেব তাকে যোহরের সময় আসতে বললো। যোহরের সময় কাজী ছাহেব বললো, আছরে আসতে। কিন্তু এরপরে আছরের সময় মাগরিব, মাগরিবের সময় ইশা এবং ইশার সময় সরাসরি না করে দিলো। তখন গরিব আলিম ব্যক্তি বললেন, হে কাজী ছাহেব! আপনি আমাকে দিতে পারবেন না সেটা আগেই বলতে পারতেন, আমি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু তা না করে আমাকে সারাদিন ঘুরিয়ে এই শেষ মুহূর্তে না করছেন? কাজী ছাহেব সেই গরিব, আলিম ব্যক্তির কথায় কর্ণপাত না করে ঘরের দরজা বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো।
মনের দুঃখে আলিম লোকটি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। পথে ছিলো এক খ্রিস্টানের বাড়ি। একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখে উক্ত খ্রিস্টান তাঁকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু বিধর্মী বিধায় খ্রিস্টানকে প্রথমে তিনি কিছু বলতে চাইলেন না। অতঃপর খ্রিস্টানের অধীর আগ্রহের কারণে তিনি আশূরার ফযীলত ও তার বর্তমান দুরবস্থার কথা ব্যক্ত করলেন। খ্রিস্টান ব্যক্তি তখন উৎসাহী হয়ে তাকে আশূরার সম্মানার্থে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং অতিরিক্ত আরো ২০ দিরহাম দিল এবং বললো যে, আপনাকে আমি আশূরার সম্মানার্থে প্রতিমাসে এ পরিমাণ হাদিয়া দিবো। ওই ব্যক্তি তখন তা নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং খাবার তৈরি করে ছেলে-মেয়েসহ আহার করলেন। অতঃপর দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ পাক! যে ব্যক্তি আমাকে সন্তুষ্ট করলো, আমার ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফোটালো, আল্লাহ পাক আপনি তার দিল খুশি করে দিন, তাকে সন্তুষ্ট করে দিন।” 
ওই রাতে কাজী ছাহেব স্বপ্ন দেখলো। স্বপ্নে কাজী ছাহেবকে বলা হচ্ছে, হে কাজী ছাহেব! তুমি মাথা উত্তোলন করো। মাথা তুলে কাজী ছাহেব দেখতে পেলো যে, তার সামনে দুটি বেহেশতের বালাখানা। একটি স্বর্ণের আরেকটি রৌপ্যের। কাজী ছাহেব বললো, ‘আয় আল্লাহ পাক! এটা কি?’ গায়িবী আওয়াজ হলো, ‘এ বালাখানা দুটি তোমার ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে গরিব আলিম লোকটি আশূরা উপলক্ষে সাহায্যের জন্য এসেছিলেন তাকে তুমি সাহায্য করোনি। এজন্য এ বালাখানা দুটি এখন ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ অতঃপর কাজী ছাহেবের ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম থেকে উঠে ওজু ও নামায আদায় করে সেই খ্রিস্টানের বাড়িতে গেলো। খ্রিস্টান কাজী ছাহেবকে দেখে বিস্ময়াভূত হলো। কারণ কাজী ছাহেব খ্রিস্টানের পড়শি হওয়া সত্ত্বেও জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সময় তার বাড়িতে আসতে দেখেনি। 
অতঃপর খ্রিস্টান ব্যক্তি কাজী ছাহেবকে বললো, ‘আপনি এতো সকালে কি জন্য এলেন?’ কাজী ছাহেব বললো, ‘হে খ্রিস্টান ব্যক্তি! তুমি গত রাতে কি কোনো নেক কাজ করেছো?’ খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, আমার খেয়ালে আসে না যে, আমি কোনো উল্লেখযোগ্য নেক কাজ করেছি। তবে আপনি যদি জেনে থাকেন তাহলে আমাকে বলতে পারেন। তখন কাজী ছাহেব বললো, তুমি গত রাতে আশূরা উপলক্ষে এক গরিব আলিমকে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং তার সাথে আরো বিশ দিরহাম হাদিয়া করেছো এবং প্রতি মাসে তাঁকে এ পরিমাণ হাদিয়া দেয়ার ওয়াদা করেছো। খ্রিস্টান ব্যক্তি তা স্বীকার করলো। কাজী ছাহেব বললো, তুমি তোমার এই নেক কাজ এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে আমার নিকট বিক্রি করে দাও এবং তুমি উনার সাথে প্রত্যেক মাসে যে ওয়াদা করেছো আমি তাঁকে তা দিয়ে দিবো।’ খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আপনি কি জন্য এই সামান্য হাদিয়া করার বিনিময়ে আমাকে এক লক্ষ দিরহাম দিবেন সেটা স্পষ্ট করে বলুন? তখন কাজী ছাহেব তার স্বপ্নের কথা খুলে বললো যে, এই গরিব আলিম আশূরা উপলক্ষে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছিলো আমি তাকে সাহায্য করিনি। যার কারণে রাতের বেলা আমাকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দ্বারা তৈরি বেহেশতের দুটি বালাখানা স্বপ্নে দেখিয়ে বলা হয়েছে, হে কাজী ছাহেব! ‘এ বালাখানা দুটি তোমার ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে গরিব আলিম লোকটি আশূরা উপলক্ষে সাহায্যের জন্য এসেছিলেন তাকে তুমি সাহায্য করোনি। এজন্য এ বালাখানা দুটি এখন ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ কাজী ছাহেব বললো, তুমি তো খ্রিস্টান। তুমি তো এই বালাখানা পাবে না। কারণ, ইসলাম আসার পরে পূর্ববর্তী সমস্ত ধর্ম বাতিল হয়ে গেছে। কাজেই সেই ধর্মের উপর যারা থাকবে তারা জান্নাত লাভ করতে পারবে না। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি তাহলে কি এই বালাখানার মালিক হতে পারবো? তখন কাজী ছাহেব বললো, হ্যাঁ, তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করো তাহলে বালাখানা লাভ করতে পারবে। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আপনি সাক্ষী থাকুন আমি এক্ষণি কালিমা শরীফ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ খ্রিস্টান ব্যক্তি পবিত্র আশূরাকে সম্মান করার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাঁকে ঈমান দান করলেন এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দিয়ে জান্নাত দান করলেন। 
আশূরা শরীফকে কেন্দ্র করে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই বক্তৃতা ও লিখনীতে বেশকিছু কুফরী আক্বীদার বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। যেমন- কেউ কেউ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেসহ অনেক নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমালোচনা করে থাকে। অর্থাৎ তাদের বক্তব্য হলো উনারা গুনাহখতা করেছেন, আল্লাহ পাক তিনি আশূরার দিনে উনাদেরকে ক্ষমা করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! আবার কেউ কেউ কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট ছাহাবী, কাতিবে ওহী, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেসহ অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কঠোর সমালোচনা করে, তিরস্কার করে, গালি-গালাজ করে। নাঊযুবিল্লাহ! 
অথচ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ছহীহ ও বিশুদ্ধ আক্বীদা হচ্ছে- সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম অর্থাৎ সর্বপ্রকার গুনাহখতা, ভুল-ত্রুটি, লগজেস থেকে পবিত্র। এর খিলাফ আক্বীদা পোষণকারীরা মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। অপরদিকে হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিসহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করাও কাট্টা কুফরী। যারা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করে তারাও কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর দৃষ্টিতে কাট্টা কাফির।
=======================================================================

Wednesday, April 5, 2017

সুমহান বরকতময় পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ- সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম, আওলাদে রসূল হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ! যা এ বছরের অর্থাৎ ১৪৩৮ হিজরী সনের জন্য ১৩ হাদি ’আশার ১৩৮৪ শামসী, ১২ এপ্রিল ২০১৭ ঈসায়ী, ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার।

No comments:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ বা আওলাদগণ উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের জন্য।’ সুবহানাল্লাহ!
সুমহান বরকতময় পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ- সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম, আওলাদে রসূল হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ! যা এ বছরের অর্থাৎ ১৪৩৮ হিজরী সনের জন্য ১৩ হাদি ’আশার ১৩৮৪ শামসী, ১২ এপ্রিল ২০১৭ ঈসায়ী, ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার।
===================================
সকল মুসলমান উনাদের জন্য ফরয হচ্ছে- উনার পবিত্র জীবনী মুবারক জানা, উনাকে প্রতি ক্ষেত্রে অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং সর্বত্র উনার বেশি বেশি আলোচনা করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

- ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে, সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে মুহব্বত করবে এবং উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি সেই পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। আর তিনি হচ্ছেন সম্মানিত ১২ ইমাম উনাদের মধ্যে ৬ষ্ঠ ইমাম। অর্থাৎ ইমামুছ সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম উনার মুবারক নাম হচ্ছে “জা’ফর”। যার অর্থ সাগর বা জামিউন নিসবত। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন, ইলম, আক্বল, সমঝে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফাত-মুহব্বত প্রাপ্তিতে সাগরতুল্য। মুবারক কুনিয়াত- আবু আবদিল্লাহ ও আবু ইসমাঈল। ‘ছাদিক্ব’ হচ্ছে উনার খাছ লক্বব মুবারক। 
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পিতা উনার দিক থেকে উনার মুবারক নসব হচ্ছে হযরত জা’ফর আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত আলী মুরতাজা আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত পিতা উনার নাম মুবারক- হযরত আবু জা’ফর মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিতা মাতা উনার নাম মুবারক হযরত উম্মে ফারওয়া বিনতে হযরত কাসিম আলাইহাস সালাম। যিনি হযরত আসমা বিনতে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার মেয়ে ছিলেন। মাতা উনার দিক থেকে উনার নসব মুবারক হচ্ছেন- হযরত উম্মে ফারওয়া বিনতে হযরত কাসিম ইবনে হযরত মুহম্মদ ইবনে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইমামুল মুহসিনীন, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, ফখরুল আশিক্বীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি ৯৬ হিজরী সনে পবিত্র মদীনা শরীফ-এ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এ মতটিই অধিক ছহীহ এবং নির্ভরযোগ্য।
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, ফখরুল আরিফীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াত’। উনার প্রতিটি দোয়া বা আরজু কবুল করা হয়, তাই উনাকে ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াত’ বলা হয়। তিনি যখন যা দোয়া করতেন, তখন তা-ই কবুল হতো। বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি একদিন ইমামুল মুহসিনীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে এই মর্মে দোয়া করতে অনুরোধ করলেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তাকে এত অর্থ-সম্পদ দান করুন, যাতে সে অনেক হজ্জ করতে পারে। তিনি দোয়া করলেন- আয় আল্লাহ পাক! এই ব্যক্তিকে এত অর্থ-সম্পদ দিন, যেন সে পঞ্চাশবার হজ্জ করতে পারে। সে মতে লোকটি পূর্ণ পঞ্চাশবার হজ্জ করে। সুবহানাল্লাহ! 
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলত কিতাবে উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত, ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান বর্ণিত রয়েছে। তিনি ১৪৮ হিজরী সনে এই পবিত্র রজবুল হারাম মাসেরই ১৪ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) পবিত্র মদীনা শরীফ-এ ¬পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তাই সকল মুসলমান উনাদের জন্য ফরয হচ্ছে- উনাকে মুহব্বত করা, উনার জীবনী মুবারক জানা, উনাকে প্রতি ক্ষেত্রে অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং সর্বত্র উনার বেশি বেশি আলোচনা করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাসব্যাপী মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

রবীন্দ্রঠগের ” এসো হে বৈশাখ এসো এসো” বিশাখানামক দেবী অর্চনা

No comments:

রবীন্দ্রঠগের ” এসো হে বৈশাখ এসো এসো” বিশাখানামক দেবী অর্চনা

======================================================================
বৈশাখ মাসের নামকরণ করা হয়েছে আকাশের তারকা বিশাখা এর নামকরণের সাথে মিল রেখে। আর বিশাখা তারকা মুশরিকদের পূজার দেবতা। বৈশাখ মাসের প্রথম দিন পৃথিবীর সকল হিন্দু ধর্মানুরাগীরা বিশাখা দেবতার উদ্দেশ্য পূজা দিয়ে থাকে। সুতরাং এটা হিন্দুদের পূজার একটি দিন।
উইকি মতে “বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখানক্ষত্রটিকে সূর্যের কাছে দেখা যায়।(https://goo.gl/Yhcf21, Another New Year,Another Resolution”। daily-sun.com, সংগৃহীত ১ জুন ২০১৪।)
এদিকে বাংলা অভিধান বলছে, বিশাখা :
১. রাধিকার একজন সখী
২. সাতাশ নক্ষত্রের একটি https://goo.gl/hfdD44 ।
https://goo.gl/pjlUxa, https://goo.gl/0KKojQ , https://goo.gl/yXwqga
সুতরাং রবীন্দ্রনাথ যখন এসো হে বৈশাখ বলে ডাকে, সে কিন্তু নিজ ধর্মীয়বিশ্বাস থেকেই তার দেবতাকে ডাকে,অন্য কাউকে নয় । এ গানের পরবর্তী লাইনগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লেই নিশ্চিত হতে পারবে যে এটি স্রেফ একটি প্রার্থনা। দুঃখ-বেদনা, দুঃসংবাদ,দুর্ভাগ্যসহ যাবতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে দূর হয়ে শুভক্ষণ যেন আসে সে প্রার্থনাই করা হয়েছে দেবতার কাছে।
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো…
যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো…
মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো…
দেবতার কাছে রবীন্দ্রের এ আর্তি যখন একজন মুসলিম পাঠ করে তখন সেটি শিরক বলে গণ্য হওয়ার বিকল্প থাকে না।
এ ধরনের প্রার্থনা কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো কাছে করেন সেটিকে কুরআন-হাদিসে অসংখ্য জায়গায় সরাসরি শিরক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
’”কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না”।’ (সূরা জিন :৭২/১০)
“‘আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকো না, যা তোমার উপকার করতে পারেনা আর ক্ষতিও করতে পারে না, অতঃপর যদি তুমি এমন কাজ কর তাহলে তুমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে”। (সূরা ইউনুস : ১০/১০৬)
আফসোস মুসলমান আজ গানে গানে হিন্দুদের দেবতাকে ঢেকে থাকে! । আল্লাহর বানী অনুসারে চন্দ্র মাসকে আমাদের জন্য দিন গণনার ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও যারা চন্দ্র মাসের খবরই জানে না, অথচ পহেলা বৈশাখের বিশাখা নামক দেবতার তুষ্টির জন্য জন্য কাঁচা মরিচ, পিয়াজ, পান্তাভাত আর ইলিশ মাছ ভক্ষণ করে, তাদের খবর হবে কবর থেকেই।তখন কবরে গুর্জু খাওয়া থেকে বিশাখা দেবতা রক্ষা করতে আসবেনা।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।

No comments:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।

=========================================================================


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-ধারাবাহিক।
****************************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরও উল্লেখ আছে-
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله عز وجل وعزتى وجلالى لاعذبت احدا يسمى باسمك فى النار.
অর্থ: “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমার ইজ্জত ও জালালের ক্বসম করে বলছি যে, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নাম মুবারক অনুযাযী যাদের নাম রাখা হবে তাদের কাউকেই দোযখে শাস্তি দিব না।” (পবিত্র মুসনাদুল ফিরদাউস)
 
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ ও এতদসম্পর্কিত মু’জিযা শরীফ
 
আরো বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের পূর্বে আমি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইয়ামেনে গেলাম এবং আশ কালান ইবনে আবিল আওয়ালিমের কাছে অবস্থান করলাম। তিনি ছিলেন অতিবৃদ্ধ দুর্বল ও শক্তিহীন ব্যক্তি। আমি যখনই ইয়ামেন যেতাম, উনার সাথে দেখা করে আসতাম। তিনি প্রত্যেকবার আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তিত্ব পয়দা হয়েছেন কি, যিনি গৌরব ও সম্মান-মর্যাদা অর্জন করেছেন কিংবা তোমাদের ধর্মের বিরোধিতা করছেন? আমি না সুচক উত্তর দিতাম। এবার যখন আমি উনার কাছে অবস্থান করলাম, তখন তিনি পূর্বের তুলনায় অধিক জীর্ণ-শীর্ণ ও নিঃশক্তি হয়ে গিয়েছিলেন। উনার কানও বধির ছিলো। উনার পুত্র উনার কাছে উপস্থিত থেকে উনাকে ধরে বসাত। তিনি আমাকে বললেন, নিজের বংশ তালিকা বর্ণনা করুন। আমি বললাম, আমি হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ইবনে আবদে আওফ ইবনে হারিছ ইবনে যাহরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। আশকালান বললেন, এ জন্যে আপনাকে একটি সুসংবাদ দিচ্ছি, যা বাণিজ্যের তুলনায় উত্তম। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার ক্বওম থেকে গত মাসে যিনি আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন এবং উনার উপর কিতাব নাযিল করেছেন। তিনি প্রতিমার পূজা করতে নিষেধ করেন, এক আল্লাহ পাক উনার পথে দাওয়াত দেন, সদাসর্বদা সত্য কথা বলেন এবং বাতিল বা খারাপ কাজ করতে নিষেধ করেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কোন গোত্র থেকে? তিনি বললেন, বনী হাশিম থেকে। আপনারা উনার অবস্থা প্রত্যক্ষ করুন। হে আব্দুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! উনাকে সত্যবাদী বিশ্বাস করে উনার খিদমত ও উনার সমর্থন করুন। এই কয়েক লাইন কবিতা আমার পক্ষ থেকে উনাকে উপহার দিবেন।
اشهد بالله ذى المعال * وفائق الليل با لصباح
اشهد بالله رب موسى * انك ارسل بالبطاح
فكن شفيعى الى مليك * يدعوا البر ابا الى الصلاح
“আমি সুমহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষ্য দেই, যিনি রাতকে ভোর দ্বারা উন্মোচন করেন। আমি হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার মহান রব- উনার সাক্ষ্য দেই। আপনি (আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তথা সারা কায়িনাতের জন্য প্রেরিত হয়েছেন। অতএব, আপনি সেই রাজাধিরাজ (মহান আল্লাহ পাক) উনার কাছে আমার শাফায়াতকারী হবেন, যিনি সৃষ্টিকে হক্ব ও সত্যের দিকে আহ্বান করেন।”
(ইনশাআল্লাহ চলবে)

যামানার মুজাদ্দিদ তথা মুজাদ্দিদ যামান উনাকে চেনা ও জানা ফরয

No comments:
যামানার মুজাদ্দিদ তথা মুজাদ্দিদ যামান উনাকে চেনা ও জানা ফরয
ফারিহা নুজহাত
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি যুগে যুগে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পাঠিয়েছেন। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরামগণ এবং ওলীআল্লাহগণ অর্থাৎ মুজাদ্দিদগণ উনাদের যুগ। ধারাবাহিকভাবে মহান আল্লাহ পাক প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতেই একজন করে মুজাদ্দিদ পাঠিয়েছেন, পাঠাবেন, পাঠাচ্ছেন। এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক যামানার শুরুতেই উম্মতের জন্য মুজাদ্দিদ পাঠান। যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে তাজদীদ করেন।” 
অর্থাৎ যিনি মুজাদ্দিদ হবেন তিনি উনার যুগের সমস্ত উম্মতদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পথে ডাকেন। এবং উম্মতের মাঝে হাদী  হিসেবে এসে উম্মতদেরকে হিদায়েত করবেন। সুতরাং এখন আমাদের সকলকে ‘মুজাদ্দিদ আ’যম’ উনাকে চিনতে হবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি তার যামানার মুজাদ্দিদ উনাকে চিনলো না সে জাহিলিয়াতের ন্যায় মৃত্যুবরণ করবে।” (পবিত্র মুসলিম শরীফ)
অতএব, আমাদের সকলের উচিত যামানার মুজাদ্দিদ উনাকে চেনা। উনাকে চিনে উনার ক্বদমে এসে উনার হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করে শয়তান এবং তার বিভ্রান্তিকর পথ থেকে ফিরে এসে পবিত্র দ্বীন-ইসলাম উনার পথে দাখিল হওয়া।
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু প্রত্যেক যামানাতেই একজন করে মুজাদ্দিদ পাঠিয়েছেন, সেহেতু এই যামানাতেও একজন মুজাদ্দিদ অবশ্যই পাঠিয়েছেন। আর বর্তমান যামানার যিনি মুজাদ্দিদ তিনিই হচ্ছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউসুল আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবল আলাইহিস সালাম তিনি। 
অতএব, আমাদের সকলকে অবশ্যই উনার ক্বদম মুবারকে এসে উনার হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পথে দাখিল হতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করেন। আমীন!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্পর্কে খুব সাবধানে এবং অত্যন্ত আদব ও শরাফতের সাথে কথা বলতে হবে।

No comments:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্পর্কে খুব সাবধানে এবং অত্যন্ত আদব ও শরাফতের সাথে কথা বলতে হবে।
মুহম্মদ নূরুল হুদা

মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি, মুহব্বত, মা’রিফাত, নিসবত, তায়াল্লুক হাছিল করার প্রধান দুটি উসীলা। প্রথমতঃ উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রতি এবং দ্বিতীয়তঃ উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে চরম বিশুদ্ধ হুসনে যন রাখা তথা মুহব্বত, মা’রিফাত, নিসবত, তায়াল্লুক রাখা এবং চূড়ান্ত তা’যীম, তাকরীম করা ও সর্বোচ্চ আর্থিক খিদমত করা। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যায়, সাধারণ মুসলমান তো বটেই এমনকি মালানা নামধারীরাও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে যৎকিঞ্চিৎ ধারণা এবং তদাপেক্ষা কম তা’যীম, তাকরীম করলেও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই রাখে না। নাঊযুবিল্লাহ! এমনকি অনেকে অজ্ঞতাবশতঃ উনাদের জান্নাতে যাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ পবিত্র আয়াত শরীফ ও ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ!
আর সাধারণ আকলের প্রেক্ষিতেও বলা যায়, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারককে চুম্বন করার কারণে একজন বনী ইসরাইলীকে জান্নাত দেয়া হয়, উনার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হয়। শুধু তাই নয়; বরং উনার মর্যাদা আরো বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার গোছল, কাফন ও দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ওই বনী ইসরাইলী তিনি জান্নাতী হয়েছিলেন। তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেশানী মুবারকে ধারণ করেছেন, যিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ উনার মধ্যে ধারণ করেছেন, যিনি সরাসরি চুম্বন করেছেন উনাদের জান্নাতী হওয়া সম্পর্কে এরপরও কি প্রশ্ন উঠতে পারে?
বরং স্বয়ং পবিত্র জান্নাতই উদগ্রীব হয়ে আছে কখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। উনারা জান্নাতে প্রবেশ করলেই জান্নাতের জীবন স্বার্থক হবে।
মূলত, শুধু এ বিষয়ই নয়, বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্র শান-মান মুবারক সম্পর্কে জানা এবং উনাদের তা’যীম, তাকরীম মুবারক করা পৃথিবীর সর্বপ্রধান ও সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ফরয। সুবহানাল্লাহ!
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের নাম সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আমিনা’ আলাইহাস সালাম হওয়ার হাক্বীক্বত- “আব্দ” অর্থ ‘আনুগত্য স্বীকারকারী’ আর এর সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক যুক্ত হয়ে ‘আব্দুল্লাহ’ অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার বশ্যতা-আনুগত্যতা স্বীকার করতেন। তিনি যদি মূর্তিপূজারী হতেন, তাহলে উনার নাম হতো ‘আব্দুল উজ্জা’। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ উনার নাম মুবারক হলো হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম। তেমনিভাবে হযরত ‘আমিনা’ (আলাইহাস সালাম) শব্দ মুবারকের অর্থ হলো, ‘ঈমান আনয়নকারী বা নিরাপদ’। অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান এনে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ফিতরাত যুগের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং উনারা দ্বীনে হানিফের উপর কায়িম ছিলেন। 
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিল সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে হিববান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূর মুবারক সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।” (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/৪৫)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারক উনার মধ্যস্থিত সবকিছু পাক-পবিত্র এবং তা গলধঃকরণ নাজাত হাছিলের কারণ হলে যাঁদের মাধ্যমে তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন উনাদের জন্য কি হুকুম?
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শধন্য পবিত্র রওযা শরীফ উনার ধূলি মুবারকের মর্যাদা পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ধারক-বাহক উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের ফায়ছালা কি?
উল্লেখ্য, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদেরকে পবিত্র ছোহবত মুবারক দিয়েছেন।
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের এবং উনাদের পূর্বতন কেউই ব্যভিচারী, বেপর্দা, কাফির, মুশরিক এবং অশ্লীল ও অশালীন কাজে কখনোই লিপ্ত ছিলেন না। উনাদের ব্যাপারে কেউ এরূপ কল্পনা করলেও ঈমানহারা হবে। বরং উনারা সবাই পবিত্র থেকে পবিত্রতম ছিলেন। উনাদের মধ্যে কেউ ছিলেন যামানার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম আবার কেউ ছিলেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর যখন লক্ষ লক্ষ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল তা’যীম, তাকরীম করে দ-ায়মান তখন উনার সম্মানিতা দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদীয়া আলাইহাস সালাম তিনি আসলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার চাদর মুবারক বিছিয়ে দিলেন উনাকে বসার জন্য। উনার প্রতি এ তা’যীম-তাকরীম দেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সবাই মহা আশ্চার্যন্বিত হলেন। সুবহানাল্লাহ!
সঙ্গতকারণেই উপলব্ধি করা উচিত যে, সম্মানিতা দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদীয়া আলাইহাস সালাম উনাকেই যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতো সম্মান বণ্টন করেন, তাহলে যবীহুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে উনি কত সম্মান ও নিয়ামত এবং শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত বণ্টন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই উনাদের স্মরণ, মূল্যায়ন, উনাদের বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ দিবস অত্যন্ত মুহব্বত, খুলুছিয়ত, জওক, শওক ও আদবের সাথে পালন করলে তা উম্মাহর জন্য কত ফযীলত নাজাত, নিয়ামতের কারণ হবে তা কল্পনা করা দুঃসাধ্য। বিপরীত দিকে যারা উনাদের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আদবহীনতার পরিচয় দিবে তারাও যে কত হালাক তা চিন্তা করাও দুঃসাধ্য। নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!

যে ঘরে মূর্তি কিংবা ছবি থাকে সে ঘরে প্রবেশ করা নাজায়িয ও হারাম

No comments:

Add caption

  1. যে ঘরে মূর্তি কিংবা ছবি থাকে সে ঘরে প্রবেশ করা নাজায়িয ও হারাম

  2. মুফতী আহমদ আবূ সাফওয়ান


  1. عن حضرت ام الـمؤمين الثالثة عائشة الصديقة عليها السلام انها قالت وعد رسول الله صلى الله عليه وسلم جبرائيل عليه السلام فى ساعة ياتيه فيها فجاءت تلك الساعة ولم ياته وفى يده عصا فالقاها من يده وقال من يخلف الله وعده ولارسله ثم التفت فاذا جرو كلب تحت سرير فقال يا ام الـمؤمين الثالثة عليها السلام متى دخل هذا الكلب ههنا فقالت والله ما دريت فامره به فاخرج. فجاء جبراءيل عليه السلام فقال رسول الله صلى الله  وعدتنى  فجلس  لك  فلم  تات  فقال منعنى الكلب الذى كان فى بيتك. انا لا ندخل بيتا فيه كلب ولا صورة.

    অর্থ: হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালাম নির্দিষ্ট সময়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ওয়াদা করলেন, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম আসলেন না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক হাতে একখানা লাঠি ছিল, তিনি সেটা ফেলে দিলেন এবং বললেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল আলইহিমুস সালাম উনারা ওয়াদা খিলাফ করেন না।” অতঃপর লক্ষ্য করলেন, চৌকির নীচে একটি কুকুরের বাচ্চা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন “হে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম! এই কুকুরটি এখানে কখন প্রবেশ করলো?” তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম আমি জানিনা। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুকুমে কুকুরটি বের করে দেয়া হলো। অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আসলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে জিবরীল আলাইহিস্ সালাম! আপনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করার ওয়াদা করেও সাক্ষাৎ করলেন না অথচ আমি আপনার অপেক্ষায় বসে আছি। হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন, আপনার ঘরের কুকুরটি আমার প্রবেশে বাধা দিয়েছে। কেননা আমরা রহমতের ফেরেশ্তা আলাইহিস সালাম ঐ ঘরে প্রবেশ করিনা, যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর ছবি থাকে। (মুসলিম শরীফ কিতাবুল লিবাছ বাবুত তাহরীমুত তাছাবীর ২য় জিঃ পৃঃ ১৯৯)

    عن حضرت على كرم الله وجهه عليه السلام قال صنعت طعاما فدعوت النبى صلى الله عليه وسلم فجاء فدخل فراى سترا فيه تصاوير فخرج وقال ان الملكئة لا تدخلو بيتا فيه تصاوير.

    অর্থঃ হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাদ্য তৈরী করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত দিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসে, ঘরে প্রবেশ করে ছবিযুক্ত একটি পর্দা দেখে, ঘর হতে বের হয়ে গেলেন এবং বললেন, “নিশ্চয়ই হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ঐ ঘরে প্রবেশ করেননা, যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে।” (নাসাঈ শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ৩০০)।

 
back to top