Wednesday, April 5, 2017

সুমহান বরকতময় পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ- সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম, আওলাদে রসূল হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ! যা এ বছরের অর্থাৎ ১৪৩৮ হিজরী সনের জন্য ১৩ হাদি ’আশার ১৩৮৪ শামসী, ১২ এপ্রিল ২০১৭ ঈসায়ী, ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার।

No comments:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ বা আওলাদগণ উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের জন্য।’ সুবহানাল্লাহ!
সুমহান বরকতময় পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ- সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম, আওলাদে রসূল হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ! যা এ বছরের অর্থাৎ ১৪৩৮ হিজরী সনের জন্য ১৩ হাদি ’আশার ১৩৮৪ শামসী, ১২ এপ্রিল ২০১৭ ঈসায়ী, ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার।
===================================
সকল মুসলমান উনাদের জন্য ফরয হচ্ছে- উনার পবিত্র জীবনী মুবারক জানা, উনাকে প্রতি ক্ষেত্রে অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং সর্বত্র উনার বেশি বেশি আলোচনা করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

- ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে, সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে মুহব্বত করবে এবং উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি সেই পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। আর তিনি হচ্ছেন সম্মানিত ১২ ইমাম উনাদের মধ্যে ৬ষ্ঠ ইমাম। অর্থাৎ ইমামুছ সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম উনার মুবারক নাম হচ্ছে “জা’ফর”। যার অর্থ সাগর বা জামিউন নিসবত। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন, ইলম, আক্বল, সমঝে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফাত-মুহব্বত প্রাপ্তিতে সাগরতুল্য। মুবারক কুনিয়াত- আবু আবদিল্লাহ ও আবু ইসমাঈল। ‘ছাদিক্ব’ হচ্ছে উনার খাছ লক্বব মুবারক। 
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পিতা উনার দিক থেকে উনার মুবারক নসব হচ্ছে হযরত জা’ফর আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত আলী মুরতাজা আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত পিতা উনার নাম মুবারক- হযরত আবু জা’ফর মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিতা মাতা উনার নাম মুবারক হযরত উম্মে ফারওয়া বিনতে হযরত কাসিম আলাইহাস সালাম। যিনি হযরত আসমা বিনতে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার মেয়ে ছিলেন। মাতা উনার দিক থেকে উনার নসব মুবারক হচ্ছেন- হযরত উম্মে ফারওয়া বিনতে হযরত কাসিম ইবনে হযরত মুহম্মদ ইবনে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইমামুল মুহসিনীন, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, ফখরুল আশিক্বীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি ৯৬ হিজরী সনে পবিত্র মদীনা শরীফ-এ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এ মতটিই অধিক ছহীহ এবং নির্ভরযোগ্য।
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, ফখরুল আরিফীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াত’। উনার প্রতিটি দোয়া বা আরজু কবুল করা হয়, তাই উনাকে ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াত’ বলা হয়। তিনি যখন যা দোয়া করতেন, তখন তা-ই কবুল হতো। বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি একদিন ইমামুল মুহসিনীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে এই মর্মে দোয়া করতে অনুরোধ করলেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তাকে এত অর্থ-সম্পদ দান করুন, যাতে সে অনেক হজ্জ করতে পারে। তিনি দোয়া করলেন- আয় আল্লাহ পাক! এই ব্যক্তিকে এত অর্থ-সম্পদ দিন, যেন সে পঞ্চাশবার হজ্জ করতে পারে। সে মতে লোকটি পূর্ণ পঞ্চাশবার হজ্জ করে। সুবহানাল্লাহ! 
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলত কিতাবে উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত, ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান বর্ণিত রয়েছে। তিনি ১৪৮ হিজরী সনে এই পবিত্র রজবুল হারাম মাসেরই ১৪ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) পবিত্র মদীনা শরীফ-এ ¬পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তাই সকল মুসলমান উনাদের জন্য ফরয হচ্ছে- উনাকে মুহব্বত করা, উনার জীবনী মুবারক জানা, উনাকে প্রতি ক্ষেত্রে অনুসরণ-অনুকরণ করা এবং সর্বত্র উনার বেশি বেশি আলোচনা করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাসব্যাপী মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

No comments:

Post a Comment

 
back to top